One Bangladesh

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণার দাবিতে দেশ জুড়ে ‘ওয়ান বাংলাদেশ’

২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা এবং পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি নিয়ে দেশ জুড়ে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে ওয়ান বাংলাদেশ। এ সময় পাকিস্তানের এই বর্বর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ওয়ান বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. রশিদুল হাসান বলেন, ‘কাপুরুষের মত নিরস্ত্র মানুষকে রাতের অন্ধকারে গণহত্যা চালিয়েছে তারা। এটা আমরা কখনো ভুলতে পারিনা।’ মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শিক্ষকদের স্মরণে নির্মিত ‘স্মৃতি চিরন্তন’-এর সামনে আজ ২৫ মার্চ বিকেলে আয়োজিত ওয়ান বাংলাদেশের মানববন্ধনে কথাগুলো বলেন তিনি।
এ সময় তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাদ পড়েনি খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর এমনকি রিকশাচালক। হামলা করা হয় মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস, পুলিশ সদর দপ্তর, এমনকি বস্তি এলাকাও বাদ পড়েনি তাদের এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড থেকে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলো জাতিগত নিধন এবং আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলার পরবর্তী প্রজন্মকে চিরতর পাকিস্তানের দাসে পরিণত করা। কিন্তু ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাকিস্তানকে উচিত জবাব দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা।
অস্ট্রেলিয়ার “সিডনি মর্নিং হেরাল্ড”পত্রিকার ভাষ্যমতে শুধুমাত্র পঁচিশে মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া এমনকি যুদ্ধের মধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসে এত সংখ্যক নিরীহ মানুষকে হত্যার কোনো নজির ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না৷ আর এ কারণেই ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি করা হচ্ছে বলে জানায় ওয়ান বাংলাদেশ।এ সময় উপস্থিত বক্তারা জানান, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান যেই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। তাদের হত্যাকাণ্ডের কথা যেন বিশ্ব জানতে না পারে, সে জন্য রাতে পাকসেনারা ধ্বংস করে দেয় দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক গণবাংলা, দৈনিক পিপলের দপ্তর৷ জঘন্যতম “অপারেশন সার্চলাইট” নামক হত্যাযজ্ঞকে লক্ষ্য করে পাক সেনারা জীবন নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী শিক্ষক এবং ছাত্রদের ৷ দুইশতাধিক ছাত্র এবং ২০ জন বুদ্ধিজীবী শিক্ষককে প্রাণ দিতে হয় সে রাতে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফজলুর রহমান খান, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক এম এ মুক্তাদির, ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক এম এ আর খাদেম, ড. জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, ড. মোহাম্মদ সাদেকসহ অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
উপস্থিত সকলে আরো জানায়, স্বাধীনতার ৫০তম বছরে এসেও এই গণহত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত পাকিস্তান কোন দিন তাদের ও নৃশংস কার্যক্রমের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেনি। আর সে কারণেই পাকিস্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।
ওয়ান বাংলাদেশের উদ্যোগে দেশের ৩০টি স্থানে একযোগে এই দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও মোমবাতি প্রজ্বলন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।