One Bangladesh

আগস্ট: জিয়া পরিবারের সীমাহীন নৃশংসতা ও বাঙালির দুঃসহ বেদনা – মোঃ রশীদুল হাসান

মোঃ রশীদুল হাসান

ইংরেজি বর্ষের আগস্ট মানেই বাঙ্গালীর জন্য এক কলঙ্কিত মাস। সমগ্র বাঙালি জাতির জন্য একটি শোকের মাস, অনুতাপের মাস, প্রিয় মানুষকে হারানোর মাস। এই মাসে অস্তমিত হয়েছিল বাঙালির সূর্যসন্তান, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ হয়েছিলেন বঙ্গমাতা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। এই কুচক্রিমহল আগস্ট মাসেই ঘটিয়েছিল কলঙ্কজনক ২১শে আগস্টের হত্যা যজ্ঞ এবং ১৭ই আগস্ট বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় ৬০০ টি জায়গায় বোমা হামলা চালিয়ে আতঙ্কিত করেছিল সমস্ত বাঙালিকে।

আগস্ট মাস বাঙালির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসে যেমন জন্মগ্রহণ করেছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা (৮ আগস্ট), জাতির পিতার জেষ্ঠ্য পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল (৫ আগস্ট) পক্ষান্তরে এই মাসেই বাঙালি জাতির শ্রেষ্ট ব্যক্তিদেরও প্রয়াণ ঘটে, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ আগস্ট) এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (২৯ আগস্ট)। পক্ষান্তরে এই মাসেই ঘটানো হয় বাঙ্গালির ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড । নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির জাতিসত্তার অন্যতম ধারক ও পথ প্রদর্শক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বিশ্বাসঘাতক ও স্বাধীনতাবিরোধী মহল ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটায় ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে। দোসরদের হাতে শহীদ হন শিশু রাসেল সহ বঙ্গমাতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থানের কারণে বেঁচে যান, যেটা ছিল বাঙালি জাতির অপূরণীয় ক্ষতির ভিতরে একমাত্র আশার আলো। জঘন্যতম এই হত্যাকারীরা বঙ্গবন্ধু কন্যা, উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও মেরে ফেলার জন্য বার বার হামলা চালিয়েছে । আজ থেকে ১৭ বছর আগে আবার তারা ঝাঁপিয়ে পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীকে হত্যা করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে। তৎকালীন বি.এন.পি-জামায়াত সরকারের সরাসরি মদদ ও সহযোগিতায় রক্তাক্ত বিভীষিকাময় অসভ্য এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট। কথায় বলে, “রাখে আল্লাহ্ মারে কে?”। আবারও বঙ্গবন্ধু কন্যা বেঁচে যান জননেত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বেঁচে আছেন বলেই আজ আমরা সমৃদ্ধ ও উন্নত সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু বেদনাদায়ক বিষয় হল, ২১ শে আগস্টের এই ঘৃণিত হামলায় আই.ভি. রহমান সহ নিহত হন অন্তত ২৪ জন নেতানেত্রী এবং আহত হন ৪শতের বেশি নেতাকর্মী।

নিহতদের মধ্যে অন্যরা ছিলেনঃ
১) ল্যান্স করপোরাল (অব:) মাহাবুবুর রশীদ
২)আবুল কালাম আজাদ
৩) রেজিনা বেগম
৪)নাসির উদ্দিন সরদার
৫)আতিক সরকার
৬)আব্দুস কুদ্দুস পাটওয়ারী
৭)আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম
৮)বেলাল হোসেন
৯)মামুন মৃধা
১০) রতন শিকদার
১১) লিটন মুন্সী
১২) হাসিনা মমতাজ রিনা
১৩) সুফিয়া বেগম
১৪) রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা)
১৫) মোশতাক আহমদ সেন্টু
১৬) মোহাম্মদ হানিফ
১৭) আবুল কাশেম
১৮) জাহেদ আলী
১৯) মোমেন আলী
২০) এম. শামসুদ্দিন
২১) ইসহাক মিয়া সহ আর তিন জন

এর ঠিক পরবর্তী বছরেই অর্থাৎ ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় ৬০০ টি জায়গায় বোমা হামলা চালিয়ে জঙ্গিবাদদের উত্থানের মহরা দেয় জঙ্গিগোষ্ঠী। মুন্সিগঞ্জ জেলা ছাড়া প্রতিটি জেলায় আধাঘন্টার ব্যবধানে এই বোমা হামলা চালানো হয়। নিহত-আহত স্বজনদের আর্তনাদে সেই মানুষের মনে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ঘৃণা আরও তীব্র হয়।

কেন স্বাধীনতা বিরোধী এই চক্রের মূল টার্গেট সবসময়ই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং এই দলের ধারক ও বাহকগণ ? স্বাধীনতা বিরোধী এই চক্রের দারা সংগঠিত হওয়া ১৫,১৭,২১ শে আগস্টের হত্যা কাণ্ডের উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন । ১৫ আগস্টের ন্যায় ২১ শে আগস্ট ও ১৭ আগস্টের খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় এবং পুরস্কৃত করে ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবে বিএনপি-জামাত, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান ।

কেন? সেটা একটু ব্যাখা করা দরকার।

জিয়াউর রহমান এবং তৎকালীন জাগদল পরের বিএনপি এর দিকে আলোকপাত করা যাকঃ

১। জিয়াউর রহমান ১৫ই আগস্টের ভয়ংকর সেই হত্যাকাণ্ডের পরোক্ষ মদদদাতা সব সময় হত্যাকারীদের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। এমনকি এই জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী থেকে প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে হত্যাকারীদের আশ্বস্ত করে। ইতিহাসের এই কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্যে নেতৃত্বদানকারী কর্ণেল (অব)ফারুক ও কর্ণেল (অব) রশিদ দেশত্যাগ করার পর ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা স্পষ্ট হয়। সাক্ষাৎকারে তারা বলে, ২০ শে মার্চ ১৯৭৫ সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটের দিকে তারা জিয়ার বাসায় তাঁর সাথে দেখা করে এবং বলেঃ ‘‘The country required a change’’
জিয়া তাৎক্ষণিক উত্তরে বলে, “Yes, yes, let’s go outside and talk.”

বাইরে আসলে ফারুক পুনরায় জিয়াকে বলে, “We have to have a change. We, the Junior officers, have already worked it out. We want your support and leadership.”

জিয়া অত্যন্ত স্পষ্ট ও বলিষ্টভাবে বলে, “If you want to do something, yes, you, junior officers should do it yourself……”

মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রশিদ বলে যে, ‘ সে (রশিদ) অনেকবার জেনারেল জিয়ার সাথে এই হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করে।’ এবং রশিদ জোরালোভাবে দাবী করে যে ‘জেনারেল জিয়া বিষয়টির সাথে সম্পূর্ণভাবে সম্পৃক্ত ছিল’। (In conversation with Lawrence Lifscheltz. The daily star, December 04, 2014)

প্রথম আলোর ১৫ আগস্ট ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত রশিদের স্ত্রী জোবায়েদা রশিদের বক্তব্য থেকে জানা যায়, জিয়া বলেন, “If it is a success then come to me. If it is a failure then do not involve me”

এখন প্রশ্ন হল, উপ সেনাপ্রধান হিসেবে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুন করার ষড়যন্ত্র জেনেও জেনারেল জিয়া কোন ব্যবস্থাই গ্রহন করেনি। এমনকি রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কিংবা তৎকালীন সেনাপ্রধানকে জানাবার দাপ্তরিক কাজটিও মেজর জিয়া করেনি। তার দায়িত্বের চরম অবহেলার কারণেও জেনারেল জিয়ার বিচার হওয়া উচিত।

২। ১৫ আগস্টের সেই কলঙ্কিত দিনের মাত্র ৪১ দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ সালে জেনারেল জিয়া খোন্দকার মোশতাককে (তৎকালীন রাষ্ট্রপতি) দিয়ে ‘দায়মুক্তি’ বা ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ জারি করে খুনিদেরকেও রক্ষা করে। যদিও তৎকালীন সাংবিধানিক আইনে রাষ্ট্রপতি কোন অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা রাখতো না ।

এই ইনডেমনিটির মাধ্যমে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর সকল শহীদ বঞ্চিত হয় হত্যাকাণ্ডের বিচার থেকে, এমনকি বিচার চাওয়ার অধিকারটুকুও খর্ব করা হয়। যেহেতু এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি ছিল অবৈধ, আর চতুর জিয়া ১৯৭৯ এর ৯ জুলাই এর ৫ম সংবিধান সংশোধনী মাধ্যমে এই অধ্যাদেশকে তৎকালীন প্রহসনের সাংসদদের নিয়ে ‘দায়মুক্তি’ আইনে বা ‘ইনডেমনিটি’ অ্যাক্টে পরিণত করে । এই আইনে আরও ভয়ংকর ভাবে সংযোজন করা হয় যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত (৪ বছর ৮ মাসে) ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার হবে না। একটি স্বাধীন দেশে কোন মানুষকে হত্যা করা হলে তার বিচার করাতো দূরের কথা বিচার চাওয়াই যাবে না, এমন জঘন্য আইন জিয়া পাস করেছিল শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর পরিবার, জাতীয় চার নেতা, হাজার হাজার সিপাহী, মুক্তিযোদ্ধা, সেনা কর্মকর্তাদের যারা হত্যা করেছিল তাদের রক্ষা করার জন্য। এই ‘দায়মুক্তি’ বা ‘ইনডেমনিটি’ আইন বাতিল হয় ১২ নভেম্বর, ১৯৯৬ যখন বঙ্গবন্ধুর দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন।

৩। জেনারেল জিয়া শুধু ইনডেমনিটি আইন পাশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের পুরস্কৃত করেছে, চাকরি দিয়েছে বিভিন্ন দূতাবাসে। তবে প্রধান দুই খুনি কর্ণেল ফারুক ও কর্ণেল রশিদ চাকরি গ্রহনের চেয়ে ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে। মার্কিন অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষক পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করেছেনঃ “….Zia played perhaps the most crutial of all roles. He was the key shadow man.” (The Daily star 4 December, 2014).

আর এই শ্যাডোম্যান জয় বাংলা স্লোগান ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল সর্বদা। বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলার ও ইতিহাসের উল্টোপথে বাংলাদেশ পরিচালনা করতে লিপ্ত হয় সে।

৪। নাটকীয়ভাবে জিয়া ক্ষমতায় আসার পরই প্রহসনের কোর্ট মার্শালের রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হয় শতশত দেশপ্রেমী সেপাহী ও অফিসারদের। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনো রাজাকারকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বসাতে পারে না। জেনারেল জিয়া কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে রাজাকারতন্ত্রের বীজ বপন করে। পাকিস্থান প্রেমী মেজর জিয়া পাকিস্থানের সকল প্রেতাত্মা পাকিস্থানপন্থী রাজনৈতিক ছোট ছোট দল, কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে জাগদল ও পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দেয় স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকারের শিরোমণি গোলাম আজম সহ সকল রাজাকার, আলবদর, আল-শামস তথা জামাত ও তাদের দোসরদের।

এখন একটু আলোচনা করা যাক ৭৫ এর পরবর্তী জামাত-বিএনপি জোট সরকারের ভূমিকা নিয়ে ।

বাংলাদেশ বিরোধীচক্র তথা জামাত-বিএনপি মিলে পরিকল্পিতভাবে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর রাজাকারতন্ত্র কায়েম করা হয় বাংলাদেশে । মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র “জয় বাংলা” নির্বাসিত হয় । মুছে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধুর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা । রাতারাতি পাকিস্তানি ভাব ধারা কায়েম হতে থাকে । বাংলাদেশ বেতার পরিবর্তিত হয়ে হয় রেডিও বাংলাদেশ । স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ যখন দিশেহারা ,হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরিচ্যুত করা হল, নির্বিচারে হত্যা করা হয় শত শত মুক্তিযোদ্ধাদের । ঠিক তখনই ১৯৮১ সালের ১৭ই মে ফিরে আসেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা । হাল ধরলেন স্বাধীনতা প্রদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। পুনরুদ্ধার শুরু করলেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর ও দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা থেকে পরিত্রান পেল প্রগতিশীল মানুষ । মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ১৯৯৬ সালে আবার ক্ষমতায় আসল। বাতিল হল ইনডেমনিটি নামক কালো আইন। ফিরে আসল জয় বাংলা শ্লোগান । শুরু হলো মানবতা বিরোধী এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের বিচার।

প্রতিক্রিয়াশীল স্বাধীনতা বিরোধী সেই পুরনো শকুনদের বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হল, জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থাকলে তারা বাংলাদেশে যে প্রভাব প্রতিপত্তি এবং ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে সেটা থেমে যাবে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শে ফিরে যাবে। তাই সেই স্বাধীনতা বিরোধী একইচক্র ২১শে আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোক জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামিলীগকে নিশ্চিহ্ন করতে গ্রেনেড হামলা চালায়, প্রাণে বেঁচে যান জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাদের বিরুদ্ধে সবার চরম ক্ষোভ ও ঘৃণার জন্ম হয়। এই পরাজিত শক্তি নিজেদের শক্তি প্রর্দশন করে, নিজেদের বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাংলাদেশের ৬৩ জেলার আদালত প্রাঙ্গণে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় । একই গোষ্ঠী ১৫,১৭,ও ২১ আগস্ট হামলার মূল কারিগর।

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ও খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া উপাখ্যান আলোকপাত করা যাক ।

১। ২১শে আগস্ট হামলার পর বিভিন্ন তদন্ত হয়েছে, বিচার হয়েছে এবং বিচার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে। তৎকালীন পত্রপত্রিকা অনুসন্ধানী অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে স্পষ্টভবেই তারেক জিয়া এই হামলায় সম্পৃক্ত ছিল সেতা বেরিয়ে এসেছে। ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি দয়েতসেভেলের এক রিপোর্টে বলা হয়, “এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনা হত্যা এবং আওয়ামিলীগকে নেতা শূন্য করা”। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, “হামলার আগে ঢাকায় ১০টি বৈঠক হয়। ষড়যন্ত্র মূলক বৈঠকগুলোতে ছিলেন তারেক রহমান সহ লুৎফজামান বাবর, মুজাহিদ, আব্দুস সামাদ পিন্টু, হারিস চৌধুরি।“ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবনে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়েদাবাদ হুজি আক্রমণকারীদের এবং বিএনপি জামায়াতের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। হামলার পরবর্তীতে হামলাকারীদের সহযোগিতা করেন তারেক জিয়া। তারেক রহমানের নির্দেশে খালেদা জিয়ার ভাতিজা ও তার এ পি এস-১ সাইফুল ইসলাম সহ অন্যান্যদের বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান পালিয়ে যেতে সাহায্য করে।

২। ঘৃণিত ও কলঙ্কিত এই গ্রেনেড হামলা যখন ঘটেছিল তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এবং সেই সময়ের প্রধান মন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার করা খালেদা জিয়ার দায়িত্ব থাকলেও তিনি তা করেননি । বরং সঠিক বিচার কাজ সম্পন্নের পরিবর্তে জর্জ মিয়া নাটক সাজিয়ে গোয়েরলস হার মানানো মিথ্যা কাহিনী সাজানো হয়েছিল। মামলার সমস্ত আলামত নষ্ট করা হয়েছিল তার সরকারের প্রশাসনিক জনবল দিয়ে। এমনকি তিনি জাতীয় সংসদে হাস্যরস ও তাচ্ছিল্যের সাথে মন্তব্য করেছিলেন, “কে তাকে হত্যা করতে চায়? শেখ হাসিনা তার ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে এসেছিল।” জিয়াউর রহমান কুখ্যাত কালো আইন ইনডেমনিটি আইন পাশ করে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারসহ জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার রহিত করেছিল। আর খালেদা জিয়া আরও একধাপ এগিয়ে এই জঘন্যতম হত্যাকে বিদ্রূপ করেছে।

আসলে আগস্টের এইসকল জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা , মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলা। মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক যেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের ধারক ও বাহক যেহেতু বঙ্গবন্ধু এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সভানেত্রী শেখ হাসিনা থাকলে তাদের উদ্দেশ্য কোভাবেই সফল হবে না ভেবেই স্বভাবতই এই পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধু পরিবার এবং আওয়ামী লীগ পরিবারকে ধ্বংসের উম্মাদনায় মত্ত ছিল। আর এই আগস্ট মাসেই তারা ঘটিয়েছিল ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড সমূহ। ১৫ আগস্ট ২১ আগস্ট এবং ১৭ আগস্ট যেমন একই সূত্রে গাঁথা, ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার ভূমিকা ও একইভাবে সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশের মানুষ আর ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট ও ২১ আগস্ট দেখতে চায় না। বাংলাদেশ স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গীদের আস্ফালন আর দেখতে চায় না। বাঙালি জাতির বেদনাদায়ক ও শোকাবহ আগস্ট রূপান্তরিত হোক দেশ বিরোধী ও জঙ্গিবিরোধী অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে।

লেখকঃ প্রেসিডেন্ট, ওয়ান বাংলাদেশ ও অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়